Showing posts with label অণুকাব্য. Show all posts
Showing posts with label অণুকাব্য. Show all posts

হাতসমগ্র




১.
তোমার মুঠোর ভেতর অন্য হাতের বুঁদ হয়ে থাকা,
কেমন-কোন গ্রন্থির ভেতর বেয়ে ভালবাসা শেখা!

২.
তোমার হাতের পাশে
বিব্রত হাত যদি থাকে।
দূরত্ব বাড়িও না;
আঙ্গুলের ডগা ছুঁয়ে টেনে নিও তাঁকে!

৩.
হাত
হাতের কাছে এসে ফিরে যায়।
হাত
হাতের কাছ ঘেঁষে ফিরে চায়।
হাত
যাবার আগে খুব চায়,
কেউ তাঁকে ছুঁয়ে যাক।
আর হাত খুব চায়,
অন্য হাত নুয়ে থাক!

৪.
তোমার হাতের কাছে আর কেউ ছিল কি?
তোমার হাতটা ধরে নাড়া কেউ দিল কি?
তোমার হাতটা থাক আর হাতের গায়,
তোমার হাতটা যেন ভালবাসা পায়!

৫.
ঠেলে সরাচ্ছো দূরে কার হাত?
চিরকাল এই হাত খুব কাছে পাবে না।
তবুও ছাড়ছো সাঁথ?
ওই হাত কোনদিনও ভুল করে,

অশোকীয় শিলালিপি।


আমি থাকি,
ঘোলা চোখে..
খোলা হাওয়ায় তাকিয়ে।
আর আঁকিয়ে কেউ
এঁকে যায়,
রং-রঙ্গা চোখ।
আর অশোকীয় শিলালিপি
তার; আমার!

দূরবীন!


বেশি কথা কম বলা চাই,
একটা কিছু কর।
কাছের মানুষ রাখতে দূরে,
উল্টো দূরবীন ধর।

যোদ্ধার দলে!


তোমাকে বলিনি বাঙালি,
কাঙালের কথা বাসি হলে ফলে!
দেখো, ফাঁসির দেখানো দাবি নিয়ে যেন
রাজাকারেও ভিড়ে না যায় যোদ্ধার দলে!

এ তোমার মন!


দরজা খোলার শব্দ,
দ্রুত করে দিল স্পন্দন।
চেয়ে দেখি-
এ তোমার মন!
ছেঁড়ে-ছুঁড়ে আর সব বন্ধন,
তোমার কাছেই এসে জব্দ।

তুমি রোদ্দুর!

আমাকে জল করে দিয়ে,
তুমি রোদ্দুর!
আমার প্রখরতা
কেমন মানিয়েছে তোমায়;
তোমার গায়,
এ বেলায়?

টেলিপ্যাথি!


হাতফোন
কাত হয়ে বিছানায়।
রাতফুল
ফুটেছিল জোছনায়..
টেলিপ্যাথি সংযোগে
বেজেছিল রিংটা?
রাত শেষে লাট মুখে
হাজির এসে চিন্তা!

নৈঃশব্দটাই হোক!


মুখ বলেনি, মন বলেছে।
মন বলেনি, চোখ!
চোখ যদি আর না বলে তো..
নৈঃশব্দটাই হোক!

হুঁশবিদ্ধ হতে।


এবং
আমি শহীদ মিনারে নই;
দিচ্ছি না কোন পুষ্পাঞ্জলী।
হৃদয়ে ফুটছে বোম্মবা-ফট্টাস
পুরনো স্মৃতির বুলি।
ক্রুশবিদ্ধ একুশটাকে
হুঁশবিদ্ধ হতে,
পুরনো ক্ষতে
নতুন আঘাত তুলি!

হৃদয় খাতা!


ভালবাসা যেন
বাঁশপাতা।
সুন্দর;
অথচ
ধারালো ধারে ভরায়
হৃদয় খাতা!

পরাধীন।




জন্মে-
আমার অনুমতি
নেয়া হয় নাই,
মরণেও তাই!
মাঝে পড়ে
যদি কিছু চাই,
তাইতেও স্বাধীনতা
কেও পায় নাই।

গোপন কথা।



দৃষ্টি কেটে বসালেই কি,
চোখের জ্যোতি বাড়ে?
গোপন কথা রয় না গোপন্,
কইলেই চুপিসারে!

উতাল সাগর!

একটা ছোট্ট নদী
চুমোয় চুমোয় ছুঁয়ে গেল
আমার পা।
আমি সন্তর্পনে
তাঁর বুক হাতিয়ে..
খুঁজে পেলাম-
উতাল সাগর!
কি কারণ; কি কারণ তার?

দূর্বা ঘাসে।

একটি বছর শেষে,
আরেক বছর এসে,
তোমাকে ভিজিয়ে দিলো,
কোন আবেশে!
হেসে-ভেসে চলো না হারাই..
সবুজ-টিয়া রঙ
দূর্বা ঘাসে...


চুম্বনের কোণ ছোঁয়া।

মেয়েটির ঠোঁটের প্রতিটি রেখা,
ছেলেটির মুখস্ত।
কেবল অভ্যস্ত সুর, 

সঙ্গীত আর ভঙ্গিতে,,
চুম্বনের কোণ ছোঁয়া
হয় না আর!

অগ্নিশ্বাস।

আগুনে আমার ভয় কিসে?
যখন বারুদের ঠোঁটে ঠোঁট রেখে

অগ্নিশ্বাসে বুক ভরেছি।

নিশিগন্ধা।

একটা কবিতা লিখব বলে
কত রাত হয়ে গেল ভোর,
নিশিগন্ধা হারালো
তার সুবাস,
কত জ্যোতস্নায় হয়নি’কো
অবগাহন।

সুখ!

একটা বিভৎস সন্ধ্যা,
একটা বিষন্ন রাত পেড়িয়ে...
শরতের এক টুকরো মেঘের ভাঁজে
শুয়ে থাকায় কত সুখ..
মাল্টি-স্টোরেড বিল্ডিং-এর
সভ্য কীটগুলো কি তা জানে!

সরীসৃপের মত।

সরীসৃপের মত
বুক ডলে ডলে,
পা দু’টো.. এগিয়ে চলে।
দিগন্তও... .
বুক চিতিয়ে বসে থাকে..
লাথির অপেক্ষায়।