Showing posts with label কবিতা. Show all posts
Showing posts with label কবিতা. Show all posts

পলাতক বিশ্বাসের নামতা



জীবনের প্লাটফর্মে, 
পরস্পরের দিকে পিঠ ঠেকিয়ে, 
আমি আর স্বপ্ন বিপরীতমুখী। 
যদিও বা দেখা হয়, 
চকিত চাহনীর পারস্পারিক বিনিময়ে,
অগ্নিচিতায় পুড়িয়ে দেই --
একে অন্যের মুখ, বুক।
অরণ্যে, অন্ধকারে,
দুঃস্বপ্নেরা গা ঘেঁষে আঁচিলের মতই
পড়ে থাকে।
আমি তবু,
শাড়ির কুঁচির ভাঁজে ভাঁজে
সাহস রেখে,
নাভীর কাছটায় গুঁজে রাখি
দুঃস্বপ্ন।
১৪ হাত শাড়ির সাথে
মিশে থাকে ঘাম,
কখনও বা কাম।
তবুও.. শাড়ির সাথে যুঝে
কখনও জিতেছে কি কেউ?
ইলাস্টিক সময়ের হাত ধরে হাঁটায়
বড্ড ঝক্কি।
স্তম্ভিত মুহুর্তকালও বুঝি
ওতে প্রলম্বিত হয়।
সেই কবে ফেলে এসেছি শৈশব, কৈশোর!
এখন বুঝি,
যমুনা-যৌবনের আছাড়ি-পাছাড়ি সময়।
কোটরে তার আগুন জ্বলে,
অগ্নিসেদ্ধ বারুদসমগ্রতায়।
বালিকা স্বপ্নেরা তাই,
আর আসে না।
যদি আর একটিবার আসত!
ধূলি ঝড়ের প্রমত্ততায়,
যদি রেখে যেত --
বয়সের সেই ছাপচিত্র!
কিন্তু হায়!
অসময়ে সময়েরা বড়
বেরহম হয়।
৮০ কিংবা ৮২তে,
জলহীন কোন এক দুপুরের কাছে,
বিবর্ণ স্বপ্নেরা,
বিলাপের সুরে
জল মেগে যাবে --
ঋতুবতী মেঘদলের ভীড়ে।
অপ্রকাশিত জলের কানে কানে,
পৌঁছে যাবে প্রকাশিত স্বপ্নের খোঁজ।
সেই সব স্বপ্নেরা
কাগুজে নায়ের মতন,
ডুবে যাবে --
গভীরে, জলের গভীরে।
ধূম্রজালিক কুয়াশা ভোরে,
নয়তো.. হতচ্ছাড়া কোন সন্ধ্যায়,
ছানি পড়া চোখে,
আষাঢ়-শ্রাবণ ভেবে,
আমি জপে যাব--
পলাতক বিশ্বাসের নামতা।
আর.. রেখে যাব --
কোন এক যুবতীবর্ষায় ফোটা
বৃষ্টির ইতিহাস!
কারণ
আমি জানি --
বয়স বাড়ে,
তবু দুই দু’গুণা চার হয় না।

উড়ালপঙ্খি গীত




পঙ্খি উড়াল দেয় উড়াল দেয়
উড়াল উড়াল দেয়,
ঠোঁট বাড়হাইয়া রূপাল পঙ্খি
খুদ কুড়হাইয়া নেয়।।

সোনার এক খাঁচার ভিতর,
বান্ধহাই ছিলাম পিরীতিঘর।
সেই ঘরেতে টিকল না মন,
পঙ্খি খুঁজল আলোক্যবন।
পঙ্খি উড়াল দেয় উড়াল দেয়
উড়াল উড়াল দেয়,
ঠোঁট বাড়হাইয়া রূপাল পঙ্খি
খুদ কুড়হাইয়া নেয়।।

পেখম মেলা পঙ্খি রে তুই
মন যে করে আকুঁইপাকুঁই,
তোরে নিয়ে ইচ্ছা যাব
অজান্তা এক গাঁয়।
পঙ্খি উড়াল দেয় উড়াল দেয়
উড়াল উড়াল দেয়,
ঠোঁট বাড়হাইয়া রূপাল পঙ্খি
খুদ কুড়হাইয়া নেয়।।



(বি.দ্র.> অনেকদিন না বান্ধাছিল একদিনেরো গীত, কত গ্রীষ্ম-বর্ষা গেল, গেল কত শীত, এইবারে তাই আরেক বর্ষায় ধরলাম কথা-সুর, সেই কথা-সুর নিয়া আসলো সঙ্গীতো মধুর, তমসা অরণ্য গাইল তিয়াস গলার গান, বেসুরা হাঁক্কাহৈ শুইনা বাঁচাই লইও কান! )

হাওয়াদের কি আসে-যায়!



হাওয়াদের কি আসে-যায়,
তোমার শরীর ছুঁয়ে গেলে?
হাওয়াদের ভালই লাগে,
একটুখানি আদর পেলে!

হাওয়াদের গুঞ্জরণ
শনশনশন-শনশনানী,
খুশিতে আটখানা, বেশ!
তা-ও জানি, তা-ও জানি।

# হাওয়ারা মুখ ফিরিয়ে
বসে থাকে।
হাওয়ারা তোমায় দেখে
জোশে থাকে।
হাওয়াদের আমার সাথে
কি যে আড়ি!
হাওয়ারা চায় না যেতে
আমার বাড়ি।

#হাওয়াদের আলাপ হল-
না তো কথা আমার সাথে।
হাওয়ারা প্রলাপ ডাকে,
পাতার ফাঁকে!
হাওয়ারা জানলা দিয়ে
তাকিয়ে থাকে।
হাওয়ারা নাক উঁচিয়ে
তোমার গায়ে উল্কি আঁকে!

(গুনগুনাগুন সুরের ভাঁজে আবারো গীত
আমার হাতে-আমার গলায়!)

এবং আমি তবে আবারো লিখলাম! (শিরোনাম নয়)



বিচ্ছিন্ন হতে হতেই
অবিচ্ছিন্নভাবে
আমি
গেঁথে যাই,
তুমি-তোমাদের সাথে।
কাল রাতে,
আবারো মনে পড়া..
ঝরা পাতার কথা।
এবং
আমার নাকি বয়স বাড়ে!
ওধারে
কড়া নাড়ে
প্রজাপতি..
প্রজাপতি মন।
আমি বলি--
আমার এখন বাড়ন্ত যোইবন!
কলমের ভালবাসায়
মলমের ছল করে,
ঘোরে-বেঘোরে
ঘষে যাই
বুক..
কাগজের।
এর চেয়ে আর কার
চির-রঙ্গিন মন,
জীবন?
শুনছো,
আমার এখন বাড়ন্ত যোইবন!

অন্ধকারে.. আদিম... অতঃপর.. আলো!



অন্ধকারে..
আদিম অন্ধকারে..
ঝাড়বাতির ফোঁটা দুই আলো;
কালোর রাঙতা কাগজে মুড়িয়ে,
ঘুড়িয়ে ঘুড়িয়ে..
বড্ড ইচ্ছে ছিল তাঁদের
জন্ম দেবে,
আরও
আরও কয়েক-কত সহস্র আঁধারের।
সাঁতারের ভঙ্গি করে
কেন যে..
কেন যে এঁরা দেয়-দেবে-দিচ্ছে
ডুব;
বুঝি না!
আমরা কিন্তু
আলোয়ান আলো খুঁজি;
চোখ বুজি..
নিশ্চিন্তে।
কে বা কারা;
কা-হা-রা..
কিনতে আলোক ফোঁটা,
বোঁটা ধরে হ্যাঁচকা টানে
আর,
"আলো আমার আলো ও গো" গানে..
(রবি বাবুর ছবির দোহাই পেড়েছিল?)
চাঁন-সুরুযিয়া ডালে
হাত বাড়িয়েছিল;
জানা নেই।
শুধু জানি-
কিনবেই; কিনবেই আলো..
সফেদিয়া আন্তরিক দামে।
আবারো অন্ধকারে..
আদ্দিম অন্ধকাররররে..
থাকবে কি মানুষ?

শিরোনামহীন (আপাতত)



আলো পায়ে,
কালোয় ধোয়া পথ মাড়িয়ে,
আলতো করে
ছাপ রাখি,
পুরুষ-বুকে।
শিরিষ কাগজে ঘষা
দেয়াল মতন মুখ করে,
জোরে জোরে
চিৎকার..
কি চাও;
বলতে পারো?
আরব্য রজনীর
কোন এক
নিঃসহায় সজনী,
কালো তিল গালের মায়ায়,
কিল মারে
কারো কারো
হৃদয়ে।
তাতে কার দোষ?
আমাদের?
নেই!
তবু বলবেই-
পাষাণী;
দুঃখের লাঙলের
ফলাধারী,
কূটজালী কিষাণী।
বিশ্বাস
নিঃশ্বাসের পর্দা ফাটালে,
আথালে-পাথালে,
দিও না..
বলছি দিও না-
গণহারে দোষ!
প্রদোষের কাল কেটে,
সত্যাসত্য ঘেঁটে দেখো-
কিছু তার মানুষ ছিল,
বাকি তার
নারী তো নয়..
নয়ই;
শুধু
অ-মানুষ!

জীবন ভাসমান; ভেসে যায়...



দু'টো ডানা তাঁর..
কানাবগির ছা মতন,
আঁধারে হাতড়ায় পথ।
শ্লথ গতির
ও গো ও
কাছিম জীবন,
তুমি তাঁকে সামনে এগিয়েই,
পেছনে দাও
ফেলে।
তারপর
পরাজয় মেনে,
আর কেউ
এলে,
তাঁকেও করো
তটস্থ;
অপদস্ত!
জানি,
ঔদ্ধত তোমার কাছে
অসার,
বাধ্যতাও পায় না
পাত্তা।
তাই আত্মার ভেতর প্রদীপ
জ্বেলে,
চালিয়ে যাবার ইচ্ছেয়
তেল ঢেলে,
নিজেকে খেয়ে-পড়ে
বাঁচাই।
জীবন,
ছাই-রঙ্গা আকাশগঙ্গায়,
নির্বিকারে..
জানো তো?
ডিঙ্গা ভাসাই...

তারার জন্মদিনে, তারার জন্যে গান




তোমার জন্মের,
রাতখানা
ছাপিয়ে,
দিন এলো ঝাঁপিয়ে,
স্মৃতি সব কাঁপিয়ে।
আজ শুধু কাজে ভুল,
ও আমার রাত ফুল,
সব কাজ-কর্মের
বাহানা,
করে শুধু চুলবুল।
লাফিয়ে
লাফিয়ে
হার্টবিট বেড়ে যায়,
ভেতরেতে হায় হায়,
এলোমেলো হয়ে যায়
গুছ করে বাঁধা চুল।
ও আমার তারা গো,
এ পাগলপারা গো।
ভূপতন দিবসে তাই,
শুনছো কি বলে যাই?
চোখে-মুখে-বুকে আঁকি,
ঠোঁট-রাঙ্গা মায়া-ফুল।।

(শুভ জন্ম রাত ও দিন তারা গায়েন!)

তমো
বিকেল ৫.০৫ মিনিট, ১৯/১০/২০১১

মনে রেখে ভুলে যেও.. না, না, না...!



ভুলে গেলে
কেউ কেউ,
কষ্ট হয় না কিছুই
আমার।
মনে রাখলেই বরং
বাড়ে যন্ত্রণা,
নামে
কষ্ট নামক
ওই
আঁধার-ভার!
তারও চেয়ে নষ্ট-কষ্ট;
স্পষ্ট করে মনে রেখেও,
অনেক করে একটু দেখেও,
ভুলে যাবার
কি দারুন চেষ্টা তাঁর!
চুলবুল পান্ডে মতন কষ্ট,
ভ্রষ্ট হবার বাসনায়
আর কত কশবে লাথি বুকে?
ধুঁকে ধুঁকে,
জানো কি..
এ ব্যথাও সয়ে যাব সুখে?
আর তাই..
হিরোইক স্টাইল ছেড়ে,
বালতিভর্তি ফিনাইলে
হাত নেড়ে,
হৃদি-ঘরের মেঝেটা
নাও নাও..
পরিষ্কার করে।
জোরে জোরে
আমিও যেন বলতে পারি-
ভুলটুকু নিয়ে গেছে,
স্মৃতিঘেঁষা চোরে!

ঝড় জড়ালি জ্বরে

Tomosha Aronna

ভেতরে জ্বর ওঠে,
বাইরে ঝড় ছোটে,
ম্যারম্যারে রাত
কেন কাটে না?
এই বুকে দুখ হাঁটে,
সুখ
তবু হাঁটে না।

সবার সব আসে;
ভালবাসে।
ঘাস-বুকে
পা ডুবিয়ে,
আমার কেউ আসে না।
আসে না,
আসে না।

কেউ তবে
আর ভালবাসে না?
আমি তাঁর কাছে যাই,
চোখে-চোখে
চোখে ডুবাই।
তবু কেন সে আমার
পাশে না?

মুখপোড়া চোখ শুধু বল চায়,
ছলছলে জল কেন হাসে না?
সবার সব থাকে,
আমার তবে কেউ নেই?
সেই..
সেই স্মৃতি চোখে তবু,
ভাসবেই?

জল-পট্টি দাও,
জ্বর-পট্টি দাও,
ঝড় ছুট্টি দেই।
ও সোনা,
জ্বর কেন
কমে না?
কমে না,
কমে না।

“কি কহিলাম আর কিইবা বুঝিয়াছো!”



এবং
মহাপ্রভু
তোমার সঙ্গেই আছেন।
যতক্ষণ না পর্যন্ত
তুমি তোমার সিদ্ধান্তকে
তাঁহার
অসার বাক্য বলিয়া
অপদস্ত কর!
তুমি পাপী,
দুরালাপী।
তথাপি,
মহাপ্রভু তোমায়
ভালই বাসেন।
যতক্ষণ না তুমি
পাপকে নিজের বাপ বলে
সিনার সাথে জড়াইয়া ধর।
বৎস,
বিভ্রান্ত হইও না।
আমি দালালধর্মী কেহ নই;
সহমর্মী পাপী মাত্র!
দিবা-রাত্র
তাপে জ্বলার
শিক্ষা,
মহাপ্রভু আমায়
দেন নাই।
তুমিও আইসো..
আমরা হই
সদাপ্রভুর শিষ্য।
আর
পুন্যরথে চলার দীক্ষায়,
গড়ি
অদ্ভুত অন্তর্বিশ্ব।

(বেদ বাক্য নহে; ভুলে-চুকে গড়া। ধরা পড়া তাই অতীব সহজ ও সহজাত! ভেতর ভাঙ্গছে। এবং গড়ার গরাদখানায় তাই মহাপ্প্রভুর ঢাক-বাদ্য বাদন। হইতে পারে- ইহাই অকাল বোধন; কিংবা তাও নয়!) ১১.৩৯-১২.০১ মি, দিন, ০৮/১০/২০১১

আঁটকুড়ে আঁধার



আঁধার..
সমগ্র আঁধার..
ভীষণ আঁধার..
সার বেঁধে দাঁড়িয়ে বুকের 'পর..
আঁধার..
হায়, আঁধার..
এইখানে.. এই এইখানে আঁধার ঘর..
বারবার..
আঁধার...
ছারখার করে দেয়..
নগর..
আঁধার..
আঁধারস্য আঁধার..
তোর.. আমার..
আমাদের..
হৃদয় ঘর..
কার.. কার...
কার চোখ
ভেঙ্গে ছিল বুক..
তোর..
ভোর ভেঙ্গে
ঘুম-চোখ অঘোর..
হৃদয়ে আবারো...
আধ-আঁধারী সুর-লহর..
পান-শর্তায় কেটে যায়
প্রহর..
আঁধার..
আমাদের এই শহর..
আঁধার..
মন-মানুষ-মানবিকতা চোর..
এখানে আঁধার..
ওখানটাতেও তাই...
আর তবে ছাড়াছাড়ি নাই..
দাঁতে দাঁত পিষে..
কে কার কিসে..
খুঁড়বে আঁধারী গোর..
আঁধার..
তুলি এসো শোর..
আর কি কেউ দেখা দেবে?
কি হবে আর অত ভেবে?
আঁধার..
তার চেয়ে আয় চাখি...
স্বাদখানা তোর..
আঁটকুড়ে আঁধার...
তুই ব্যাটা, ভালাইয়ের চোর....

(আঁধারের সাথে আমার উদভ্রান্ত আলাপ-প্রলাপ.. শুনে-জেনে সব মেনে বিভ্রান্ত হবেন না যেন!)



এটা পা; থেমে যেতে নেই!

বাঁ পা-টা পড়ে থাকে 
চুপচাপ। 
নিশ্চুপ-নিরব-নিশ্চল
নির্বিকারে।
নড়েও না; চড়েও না।
ডান?
সে তো সে তুলনায়
বহু সরব!
নড়ে, চড়ে;
ইচ্ছে হলেই বিছানায়
গড়াগড়ি খায়,
ঢলে কিংবা ঝাঁপিয়ে পড়ে।
জানি,
জানি..
একজনের ক্লান্তিতে
আরেকজনের চলতে কষ্ট।
কিন্তু
অস্পষ্ট
অন্যজগতের বাসিন্দা আমি।
নষ্ট কিংবা ভ্রষ্ট
অনুভূতি অনুভবে আমার
অনীহা।
তাই..
আমি চাই-
ওরা চলুক
সমান তালে,
দুলুক
একই চালে।
বিপথে থাকা দ্বি-পদের
একটি ঝিমুলে তাই..
অন্যটাকে জোরসে টেনে তুলি।
খুলি,
অনন্তযাত্রার দিগন্ত পথ।
আমি জানি,
থেমে যাওয়া মানে-
খাদে নেমে পড়া।
আর থমকে যাওয়ার মানে মাত্রই,
চমকে গিয়ে,
পরাজয়ের গৃহে টুস করে
ঢুকে পড়ে,
হুঁশ ওড়ানো
ভয়ংকরী কবর!



ধ্রুবতারা

আমি
টিপ খুলে রাখি।
কারণ,
দীপ
জ্বালিয়ে যাওয়ার মত
যথেষ্ট আলো,
চাঁদের আছে।
তুমি বুঝি আজো,
গরাদ জানালার পাশটায়,
দৃষ্টির আলো জ্বেলে,
গিটার হাতে --
“এই রাত জাগা পাখি”
কিংবা
“আমি বড় অসহায় অন্যপথে..”,
নয়..
“সারাদিন..
তোমায় ভেবে..”
গেয়ে যাও?
ও আমার তারা,
দেখো..
আমি দিশেহারা!
এসো,
দীপ নিভিয়ে যাও।
এসো।
আআর..
মায়াবতী টিপ পড়িয়ে দাও।
দেখো না,
আমি চন্দ্র হব!



ক্ষুধা-বেত্তান্ত

আমার ক্ষুধা পায়।
বয়াম খুলি,
হাঁড়ি-বাটি উল্টাই,
ফ্রিজ হাতড়াই,
অথচ
কোথাও কিচ্ছুটি নেই!
পেটে তখন,
ছুঁচো দৌড়োয়।
নিরুপায় হাত
উঠে পড়ে,
গ্লাসের গায়।
সমগ্র গ্রাসে তুলে নেয়,
ঠান্ডা টলটলে জল।
দাঁতে দাঁত পিষে,
আমি তা-ই চিবাই!
তারপর..
পা ঠেলে ঠেলে পথ চলি।
বিছানা পেয়েই,
বালিশের বুকে
মাথা ঠেকাই।

ক্ষুধারা চিতার মতন!
আগুন পেলেই,
বুন বুন করে
খড়ি-কাঠ চায়।
আমার আবারও ক্ষুধা পায়!
নির্বিবাদে তখন আমি,
চোখ বুজে,
আশার পিলসুজে
আলো জ্বালিয়ে,
কৎ করে ঢোক গিলে
পান করি।
ক্ষুধারা তখন..
নিশ্চিন্তিপুর
যায়!

নিঃসঙ্গতায়.. চারটে মানুষ...

সব কোলাহল থেমে গেছে।
চারটে মানুষ
একদম একা।
কোলাহল,
তুমি আবার এসো..
সেমাই-মাংস-পোলাও
খেয়ে,
এসে-হেসে-ভালবেসে,
“ঈদ মোবারক”
বলে যেও।
আকাশে
এখনো চাঁদ বাঁকা,
চারটে মানুষ
একদম একা!
নাটক
কি করে দেখে
আর আআর সবাই?
আমার ক্ষুধা পায়,

আমি নিরবতায় দাঁত বসাই!
চারটে মানুষ এখনো একা।
চারটে মানুষের ভেতরে-বাহিরে
অবসাদ,
আকাশে এখনো চাঁদ!
চারটে মানুষ
চারদিকে মুখ করে,
চার দেয়ালে পিঠ ঠেকায়।
আআর
পাল তোলে,
নৌকা মতন
চাঁদের গায়।
চারটে মানুষ
একই চাঁদের ছায়!

ত.অরণ্য
৩১/০৮/২০১১

অনিবার্য বরষায় যুবতী নৃত্য


সে রাতে
আমিও ছিলাম।
নিলাম ডেকেছিল
বিদ্যুৎ কর।
অতঃপর
আষাঢ়।
প্রতিকারহীন মেঘ,
আর উদ্বেগ।
ঝরতেই হল
বরষার।
এখানে
ভাতের অভাব,
সাথের অভাব,
প্রেমিকার মৃত্যু,
জীবিকার গান,
স্বপ্নের ধ্বংস
ইত্যাদি
আগুন-ফোয়ারা।
তবু বৃষ্টির ধারা,
অনুকম্পায়ী আশ্বাস।
আর
দুরাগত ধ্বনি,
মেঘ-মেদুর আবাহনী।
হয়ত
মধ্যরাতের পরীক্ষায়
তুমিও
উতরে যাবে।
পাবে
আদর্শ বর্ষার পাঠ।
আর
জলাবেশী ভালবাসা
যুবতী বর্ষার!

ত. অরণ্য
০৬/০৭/২০১১

তুই-তুমিময়।




সন্তলী বাতাস বয়,
আমারো কি যেন কি হয়!
ঘোরে-বেঘোরে
কাগজের বুকে
কলমের নাক ঘষি।
হাসি
তখনো
লন্ঠনের টিমটিমে আলো।
আমি উঠি,
ফের বসি।
পেন্সিলের অনর্থক আঁকি-ঝুঁকি,
তাও লাগে ভাল।
যদিও সেখানে নেই তুই,
তবু বাবুই কিংবা
বুলবুলি নাচে,
আমার
হৃদয়-ডালিম গাছে।
শোন,
ও কলজে-পাখি মন,
আ-আমার সব-ই
তুই-তুমিময়।
হেহ্!
হশশশ্;
জানিস তো,
প্রলাপেই লোকে
সত্যি কথা কয়!

পরিণত পরিণতি।


আত্মস্বীকৃত

খুনী আমি।
ধিক্কৃত
হবার আগ পর্যন্ত্,
আমায় নিয়ে ভাবতে নেই।
নেই;
আমায় ভালবাসতে নেই।
হাঁটু-ভাঁজ করে
বিনীত হ-ও যদি,
রুষ্ট হবেন-ই হবে অন্তর্যামী।
তাই
কাছিম-জীবন্
বাহন করেই থামি।
যেন
তোমার ভাবা ঈস্বরী
হবার 

আগেই,
বিস্মরণের জলে দেই ডুব্;
নয়্
খোলসের ভেতরেই
নিশ্চুপ্।
তুমি
পুড়ে যা-ও
কাঠ-খড়ি,
গুণে যেও
ঝিনুক-কড়ি;
নয়
পাথর-নুড়ি ক্ষণ!

শ-য়ে শুরু!


"শ-য়ে শুরু, শ-য়ে শেষে"
পাশাপাশি হেঁটেও
যোজন ব্যবধানের দূরত্বে,,,
চলে যায়
নৈকট্য।
শুরুর ঊড়ু কামড়ে ধরে,
শ-এর সাথে এঁটে দাও,,
"এসে"।
অতএব্--
"শেষে",,
দেখবে জীবন্,
আদ্যান্তে যাহা জানা নাই,
তাহাই সত্য!